April 19, 2021
দুলি খাতুন এর বাড়িতে বিজেপি জেলা প্রতিনিধিরা

দুলি খাতুন এর বাড়িতে বিজেপি জেলা প্রতিনিধিরা

মালদা: চরম দারিদ্র্যের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই কচু শাক পাতা হিঞ্চে শাক পাতা খেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিল মালদহের তুলসিহাটা হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মহেন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাংরুয়া গ্রামের বাসিন্দা দুলি খাতুন। বহুদিন আগে বাবা ছেড়ে চলে গিয়েছে অন্য জায়গায়। সংসার পেতেছে অন্য কোনো খানে। মাস ছয়েক আগে ক্যান্সারাক্রান্ত মা মারা গিয়েছেন। একমাত্র দাদা বিয়ে করে অন্যত্র। এই অবস্থায় বাপ-মা ছাড়া অভিভাবকহীন হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছিল দশম শ্রেণীর ছাত্রী দুলি খাতুন।পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি এমনকি প্রশাসনিক কর্তার দেখা মেলেনি কারো। দুলি খাতুনের খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই শুরু হয়েছে সাহায্যে ঢল। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিভিন্নভাবে। কেউ দিয়েছে নগদ টাকা কেউবা দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী। কেউবা জামা জুতো পর্যন্ত দিয়েছেন। অনেক জায়গা থেকে এসেছে ভবিষ্যতে আবাসিক মিশন এর থেকে পড়াশোনা করার প্রতিশ্রুতি।কিন্তু এরই মধ্যে উঠেছে ভয়াবহ অভিযোগ। অভিযোগকারী স্বয়ং দুলি খাতুন ও তার দাদু শেখ খলিল। দুলি ও দাদু শেখ খলিল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন গ্রামের শাসকদলের প্রাক্তন বিধায়ক তাজমুল হোসেন কিছু কর্মী সমর্থক তাকে দিনরাত ভয় দেখাচ্ছে যাতে সে বাইরের লোকের কাছ থেকে সাহায্য না নেয়। কারো কাছ থেকে সাহায্য নিলে ভবিষ্যতে তার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলে হুমকি দিয়ে গেছে এলাকার শাসক দলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী তজমুল হোসেনের কিছু কর্মী সমর্থক বলে পরিচিত বাসিন্দারা। হুমকি পাওয়ার পর থেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে দুলি খাতুন।

অসহায় মেয়ে দুলি খাতুন কান্না ভেজা গলায় তার প্রশ্ন মা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে বাবা ছেড়ে চলে গেছে,আমি একা মেয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে বাড়িতে কচু পাতা খেয়ে দিন কাটাচ্ছিলাম।তখন এলাকার কোনো নেতা বা পাড়া-প্রতিবেশী কেউ খোঁজ নেয়নি। কিন্তু আমার খবর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাকে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এই কদিনে আমি প্রচুর সাহায্য পেয়েছি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে। কিন্তু এখন এলাকারই কিছু শাসক দলের রাজনৈতিক নেতা আমাকে ধমকাচ্ছে চমকাচ্ছে। আমি বাধ্য হয়ে আমার দাদু কে ডেকে নিয়ে এসেছি। আমি একা থাকতে খুব ভয় পাচ্ছি এখন। জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে।

দুলি খাতুনের দাদু মোঃ খলিল জানালেন ওর বাবা-মার অবর্তমানে আমার নাতনি এখানে একাই থাকে। আমি এখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকি। যতটা সম্ভব সাহায্য করি। কিন্তু বর্তমানে ওর অবস্থা খুবই খারাপ। কিছুদিন আগে ওর খবর বিভিন্ন সংবাদ এ প্রকাশিত হয়। তারপর এলাকার বিভিন্ন লোকরা হুমকি দিতে থাকে। ওদের বক্তব্য কেন ও নিজের দূরবস্থার কথা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছে। এর আগে আমার নাতনি এলাকার বিভিন্ন নেতা কে বলেছিল সাহায্যের কথা কিন্তু তারা কেউ কোনো কর্ণপাত করেনি।এখন ওর কাছে বিভিন্ন জন সাহায্য নিয়ে আসছে সেটাই অনেক সহ্য করতে পারছে না।

এদিকে আজ দুলি খাতুনের সঙ্গে দেখা করতে যান বিজেপির জেলা প্রতিনিধি। এই দলে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জেলা সম্পাদক দীপঙ্কর রাম, মন্ডল সভাপতি রুপেশ আগারওয়ালা, সাধারণ সম্পাদক কিষান কেডিয়া প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। তারা দুলি খাতুনের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন।

এ প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর রাম জানান আমরা আজ দুলি খাতুনের সঙ্গে কথা বললাম। শুনতে পেলাম এলাকার শাসক দলের কর্মী সমর্থকরা ওকে ভয় দেখাচ্ছে। এটা খুব নিন্দনীয় ব্যাপার। আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে দুলীর পাশে সব সময় রয়েছি। ওর পড়াশোনা থাকা-খাওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন আমরা সব ব্যবস্থা করব।

এদিকে শাসকদলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কে অস্বীকার করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী তজমুল হোসেন। যদিও ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন তিনি এ ধরনের কোন ঘটনা কথা শোনেন নি। এ সম্পর্কে তার কোন কিছু জানা নেই। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তিনি খোঁজ নিবেন।

এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি মানিক দাস জানান মেয়েটিকে যতদূর সাহায্য করা সম্ভব তিনি করবেন। তবে শাসক দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কেউ যদি মেয়েটিকে কোনভাবেই ভয় দেখায় সেটি কোন মতেই সমর্থন যোগ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *